June 17, 2019, 10:59 pm



অডিও ক্লিপ ফাঁস, ঘুষ কেলেঙ্কারিতে ডিআইজি মিজান ও দুদক পরিচালক

দুই ব্যক্তির কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ গতকাল ফাঁস হওয়ার পর নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের বিতর্কিত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান মিজান দাবি করেছেন, ওই অডিও ক্লিপের দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন তিনি নিজে, অন্যজন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির।

তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে দায়মুক্তি দিতে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার জন্য ‘চুক্তি’ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক পরিচালক। সঙ্গে দাবি করেছেন একটি গ্যাসচালিত গাড়ি। ৫০ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ লাখ টাকা গত ১৫ জানুয়ারি রমনা পার্কে বাজারের ব্যাগে করে নগদে নিয়েছেন দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। তিনি দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ অনুবিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন।

ডিআইজি মিজানের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী বাকি ২৫ লাখ টাকার মধ্যে ১৫ লাখ টাকা নগদে নিয়েছেন গত ১ ফেব্রুয়ারি। এ ছাড়া ডিআইজি মিজান ও তার স্ত্রীকে দায়মুক্তি দিয়ে ছেলেকে স্কুলে আনা-নেওয়া করার জন্য একটি গাড়ি চেয়েছেন দুদকের এই পরিচালক।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালকের বিরুদ্ধে পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুরের এই অভিযোগের বিষয়ে গতকাল একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দুদক।

তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, আজকের মধ্যে এই কমিটি দুদকের মহাপরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডিআইজি মিজানের দাবি, গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ২ মে পর্যন্ত দুই দফায় (প্রথমে ২৫ লাখ, পরে ১৫ লাখ) ঘুষের এই টাকা লেনদেন হয়েছে রমনা পার্ক এবং পুলিশ প্লাজায় অবস্থিত ডিআইজি মিজানের স্ত্রীর কাপড়ের দোকানে।

তিনি বলেছেন, দুদকের ওই পরিচালক ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। এর মধ্যে অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা ছাড়াও তিনি তার সন্তানের স্কুলে আসা-যাওয়ার জন্য একটি প্রাইভেটকারও চেয়েছেন। দুদকের ওই পরিচালক ঘুষের টাকা ব্যাংকে বেনামি অ্যাকাউন্টে রাখার চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেছেন বর্তমানে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত ডিআইজি মিজান। নিজের দাবির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে বাছিরের সঙ্গে মুঠোফোনে ঘুষ লেনদেন বিষয়ক আলোচনার অডিও ক্লিপও সামনে এনেছেন মিজান।

তবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। মিজানের অভিযোগকে সাজানো নাটক অভিহিত করে দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, কিছুদিন আগে ডিআইজি মিজানের ভাই, ভাগ্নে ও স্ত্রীকে ডেকেছিলেন তিনি। ট্যাক্স ফাইল মিলিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা কোনো প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি। এতে ডিআইজি মিজানের ধারণা হয়েছে, তদন্ত রিপোর্ট তার পক্ষে যাবে না। তাই তিনি এসব অভিযোগ করছেন। নিজেকে বাঁচাতে দুদক এবং অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে তিনি বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন বাছির।

এদিকে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়েছে দুদক। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশও করা হয়েছে সম্প্রতি। যদিও মিজান বলছেন, তিনি নির্দোষ। দোষ না থাকলে ঘুষ কেন দিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মিজান বলেন, চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে দিয়েছি। অন্যায় করলে আমার বিচার হোক।

Facebook Comments





     এই বিভাগের আরও সংবাদ