জামিন নিতে গিয়ে কারাগারে লতিফ সিদ্দিকী

সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় অবৈধভাবে সরকারি জমি বিক্রি করে প্রায় ৪১ লাখ টাকা ক্ষতি করা সংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আদালত এ আদেশ দেন।

আজ বৃহস্পতিবার বৃহস্পতিবার বগুড়া জেলা জজ ও সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার এ নির্দেশ দেন।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় বগুড়ার আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুদকের মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। এই মামলায় আজ আদালতে জামিন নিতে গেলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলালুর রহমান বলেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সরকারি সব নির্দেশনা মেনেই জমি বিক্রির সুপারিশ করেছেন। আইনগত সব ধাপও তিনি মেনে চলেছেন। আজ তাঁকে বেআইনিভাবে কারাগারে নেওয়া হলো।

মামলা সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রানীনগর বাজারে বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের পাট ক্রয়কেন্দ্র ছিল। ব্রিটিশ সরকারের সময় ২ একর ৩৮ শতকের জমিটি সুরুজমল আগরওয়ালা নামে এক ব্যক্তির কাছে হুকুম দখল করা হয়েছিল। বগুড়া শহরের কালীতলা এলাকার মৃত হারুন-অর-রশিদের স্ত্রী জাহানারা রশিদ গত ২০১০ সালের ১৩ মে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে জমিটি তিন বছরের জন্য লিজ নেন।

প্রতি বছর লিজ মানি ধার্য ছিল এক লাখ ২০ হাজার টাকা। জাহানারা রশিদ এক বছর লিজ মানি পরিশোধ না করেই ওই জমি কেনার জন্য ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

সরকারি জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দিতে বা বিক্রি করতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের নিয়ম থাকলেও সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী তা করেননি। তিনি তার পরিচিত জাহানারা রশিদের কাছে দরপত্র ছাড়াই বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।

লতিফ সিদিকী তার একক সিদ্ধান্তে ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৫ টাকা ১১ পয়সা মূল্যের জমিটি মাত্র ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৪ টাকা ১১ পয়সায় বিক্রি করেন। এতে সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা ১১ পয়সা আর্থিক ক্ষতি হয়।

এদিকে মূল্যবান ওই জমিটি কম দামে বিক্রি করায় সংক্ষুব্ধ হয়ে নওগাঁর রানীনগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাইল হোসেন হাইকোর্টে রিট করেন। পরে জাহানারা রশিদ সুপ্রিমকোর্টে রিট করলে তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম ২০১৪ সাল থেকে তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত শেষে গত ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় এ মামলা করেছিলেন। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সাংসদ ও সাবেক পাটমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফরে গিয়ে দলীয় এক সভায় হজ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। তার বক্তব্য বাংলাদেশে গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে প্রথমে মন্ত্রিসভা এবং পরে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া বক্তব্য প্রকাশের পর ধর্মানুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দেশের ১৮টি জেলায় তার বিরুদ্ধে ২২টি মামলা হয়। ২০১৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে ধানমন্ডি থানায় আত্মসমর্পণের পর কারাগারে যান লতিফ সিদ্দিকী। এরপর জামিনে কারামুক্ত হন তিনি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে অনেক তোড়জোড় চালালেও তাকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।

Facebook Comments