নয়াপল্টনে ছাত্রদলের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, বয়সসীমা তুলে দিয়ে নিয়মিত কমিটির দাবিতে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ফের অবস্থান নিয়েছে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

সোমবার (২৪ জুন) বেলা ১১টার বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা পল্টনে জড়ো হতে শুরু করেন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নেওয়ার কিছুক্ষণ পর ছাত্রদলের দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এদিকে দুপুরে একপর্যায়ে সেখানে একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সোয়া ১টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করেন। এর পরপরই গোল্ডেন প্লেট রেস্টুরেন্টের গলি ও মূল রাস্তায় পর পর দুটো ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আরো চারটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তবে একটি বিস্ফোরিত হয়নি।

এ সময় আশপাশের লোকজন এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তবে কারা এসব ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, সেটি জানা যায়নি।

এদিকে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় ছাত্রদলের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় তাঁরা বহিষ্কারাদেশ বাতিলের পাশাপাশি নতুন কমিটি গঠনের জন্য কাউন্সিল অধিবেশনের তফসিল বাতিলের দাবিও জানান। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে বিক্ষোভ করেন।

এর আগে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বাধার মুখে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি বিএনপির ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলন।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করতে গেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাকে বাধা দেন। তখন তারা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে বহিষ্কারের দাবি জানান। ফজলুল হক মিলন তখন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তাদের পাল্টা কথায় নীরব হয়ে যান।

বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মিলনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি আগেই সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এরপর কাউন্সিলে আপনার জুনিয়রদের ভাইস চেয়ারম্যানসহ অনেক পদ দেয়া হয়েছে, কিন্তু আপনাকে সাংগঠনিক সম্পাদকই রাখা হয়েছে- এগুলো আওয়ামী লীগের চক্রান্ত। দলের মধ্যে যারা সরকারের দালাল রয়েছে তাদের বহিষ্কার করতে হবে। রিজভীকে দল থেকে বের করে দিলে পার্টি শান্ত হবে। পার্টিতে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। এমন পরিস্থিতিতে ফজলুল হক মিলন একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের (দক্ষিণ) সভাপতি এস এম জিলানী সংগঠনের কয়েক জন নেতাকর্মীকে নিয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করতে গেলে আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে ঢুকতে পারেননি।

আন্দোলনকারীরা কার্যালয়ের গেট আটকানোর সময় দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ভেতরে অবস্থানরত ও বাইরের আন্দোলনকারী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সময় টানাহেঁচড়া, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

Facebook Comments