প্রতিবেশী যখন ভয়ংকর, সাবধান কন্যা শিশুর পরিবার!

রাজধানীর ওয়ারীতে শিশু সামিয়া আফরিন সায়মাকে (৭) ধ*র্ষণের পর হ*ত্যাকারীকে গ্রে*ফতার করেছে পুলিশ। গ্রে*ফতার যুবকের নাম হারুনুর রশীদ। রোববার তাকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে ফতার করা হয়।হারুনুর রশীদ ছিলো সায়মাদের ফ্ল্যাটের মালিক পারভেজের খালেতো ভাই। গত দুমাস ধরে পারভেজের ৮ তলার ওই ফ্ল্যাটেই ছিলো রশীদ।পুরান ঢাকায় পারভেজের রঙয়ের দোকানে কাজ করতো সে।সায়মাদের পরিবারের সঙ্গে পারভেজের পরিবারের ভালো সখ্যতা ছিল।সায়মারা থাকতো ভবনের ৬ তলায়।

প্রতিবেশীর হাতে শিশু সায়মা হ*ত্যার এই ঘটনা নাড়া দিয়েছে প্রতিটি বিবেকবান মানুষের মনে। সেইসঙ্গে দুঃচিন্তা বেড়েছে শিশুদের বাবা-মায়েদের। প্রতিবেশীই যখন এমন ভয়ংকর তখন শিশুদের বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আরো বেশি সচেতন হতে হবে পরিবারকে।

এবিষয়ে রোববার এক সংবাদ সম্মেলন ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে শিশু সায়মার বাবা বলেন, আমার মেয়ের হ*ত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে তার ফাঁসি চাই।

তিনি বলেন, দেশবাসীকে আমি বলতে চাই, যাদের মেয়ে বাচ্চা আছে, তারা তাদেরকে আগলে রাখবেন। এক মুহূর্তের জন্যও আড়াল হতে দেবেন না। এইসব নরপিশাচদের হাত থেকে খেয়াল রাখবেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন বলেন, শিশু সামিয়াকে ছাদ দেখানোর কথা বলে ভবনের ৯ তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় ধ*র্ষক হারুন অর রশিদ। সেখানে শিশু সায়মাকে ধ*র্ষণ ও অমানসিক নি*র্যাতন চালায় সে। একপর্যায়ে সায়মা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। মৃ*ত ভেবে তার গলায় দড়ি পেঁ*চিয়ে টেনেহিচড়ে রান্না ঘরে নিয়ে সায়মাকে সিঙ্কের নিচে রেখে পালিয়ে যায় হারুন।

তিনি বলেন, শুক্রবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাড়ে ছয়টার মধ্যে এঘটনা ঘটে। ওই দিন সাময়া তার মাকে বলে যায়— ভবনের আট তলায় ফ্ল্যাট মালিক পারভেজের ছোট বাচ্চার সঙ্গে সে খেলবে। ওই ফ্ল্যাটে গেলে পারভেজের স্ত্রী জানান, তার মেয়ে ঘুমাচ্ছে। একারণে সায়মা বাসায় ফিরে আসছিল।

বাতেন বলেন, ভবনের লিফটে করে নামার সময় সায়মার সঙ্গে পারভেজের খালাতো ভাই হারুনের দেখা হয়। হারুন সায়মাকে ছাদ দেখানোর কথা বলে লিফট থেকে ছাদে নিয়ে যায়। এরপর সে জোর*পূর্বক ধ*র্ষণের চেষ্টা করলে সায়মা চিৎকার দেয়।

এসময় সে সায়মার মুখ চেপে ধরে এবং ধ*র্ষণ করে। পরে সায়মাকে নিস্তেজ দেখে তার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে টেনে ফ্ল্যাটের রান্নার ঘরে নিয়ে যায়। এরপর সায়মার লাশ সিঙ্কের নিচে রেখে হারুন পালিয়ে তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস থানার ডাবরডাঙ্গায় চলে যায়।

Facebook Comments