মুসলমানকে মুসলমান মারছে, লাভ হচ্ছে অস্ত্র বিক্রেতাদের

অস্ত্র বিক্রেতাদের – মুসলিম বিশ্বে সংঘাত লেগে থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এক মুসলমান আরেক মুসলমানকে খুন করছে, রণক্ষেত্র হচ্ছে মুসলিম দেশগুলো, রক্ত দিচ্ছে মুসলমানরা আর লাভবান হচ্ছে অস্ত্র বিক্রেতা দেশগুলো।’ এসব বিষয়ে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসি সম্মেলনে কথা বলে বলেছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

রোববার (৯ জুন) বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। সরকারপ্রধান তার সাম্প্রতিক জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকেন।

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগে থাকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ওআইসি সম্মেলনে আমার বক্তব্যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব থাকলে আমরা কেন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারছি না? এক মুসলমান আরেক মুসলমানকে খুন করছে আর রণক্ষেত্র হচ্ছে মুসলিম দেশ, রক্ত দিচ্ছে মুসলমানরা আর লভবান হচ্ছে অস্ত্র বিক্রেতা দেশগুলো। এই রক্তপাত বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে ওআইসিকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

জঙ্গিবাদের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধারণা করা হতো কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্ররাও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের মনে হলো বেহেশতে যেতে হবে, মানুষ খুন করতে হবে। মানুষ খুন করে তারা বেহেশতে যেতে চায়! এটা তারা কোথায় পেলো, কোথায় লেখা আছে যে, মানুষ খুন করলে বেহেশতে যাওয়া যায়? মানুষ খুন করে কেউ কি বেহেশতে যেতে পেরেছে? এখনতো সোস্যাল মিডিয়ায় অনেক তথ্য আসে, কেউ কি বেহেশতে পৌঁছে সোস্যাল মিডিয়ায় মেসেজ দিয়েছে যে সে বেহেশতে বসে আঙুর খাচ্ছে? এখন পর্যন্ত যারা মানুষ খুন করেছে, যারা বেহেশতের আশায় মানুষ খুন করেছে, তারা কি একজনও বেহেশতে পৌঁছাতে পেরেছে? কেউ মেসেজ দিয়ে জানাতে পারেনি।’

‘কোরআনে আল্লাহ বলেছেন শেষ বিচার তিনি করবেন। আল্লাহ কাউকে শেষ বিচার করার ক্ষমতা দেননি। আল্লাহ কি কাউকে মানুষ মারার ক্ষমতা দিয়েছেন? দেননি। কে মুসলমান, কে মুসলমান নয়, কে ভালো মুসলমান, কে ভালো মুসলমান নয়, সে বিচার করার দায়িত্ব আল্লাহ কাউকে দেননি। এ দায়িত্ব আল্লাহর। নিরীহ মানুষ মারলে বেহেশত পাওয়া যাবে, সেটা কোথাও লেখা নেই।’

গুটিকয়েক বক্তার নারীবিদ্বেষী বক্তব্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন একজন নারী। তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তিনি হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কে সব ধরনের সহযোগিতাও করেছিলেন। আর নারীরা যত বেশী স্বাবলম্বী হবে, শক্তিশালী হবে, নারীদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে, তত তাদের জবাব হবে।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের সময় আমি দেশের বাইরে ছিলাম। চিন্তিত ছিলাম ঈদের জামাত নিয়ে। কোনো সমস্যা যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেছি। আমি দেশের বাইরে থাকলেও সবসময় যোগাযোগ রাখি। যখন যে তথ্য পাই তদন্ত করার নির্দেশ দেই। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সুন্দরভাবে কাজ করেছে। আসলে আমাদের জনগণ কিন্তু যথেষ্ট সচেতন। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই আমরা এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চাই। এজন্য আমরা সবার সহযোগিতা চাই।’

প্রধানমন্ত্রীকে আনতে যাওয়া বিমানের পাইলটের পাসপোর্ট না নেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কষ্টের বিষয়। বিমানকে ভালো করছি আর যখনই বিমানে উঠি, একটা সমস্যা তৈরি হয়। পাসপোর্ট নেওয়া ভুল হতে পারে। কিন্তু ইমিগ্রেশন করে কী? কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এখন থেকে সবার ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, ভিসা আছে কি-না, ভালোভাবে দেখতে হবে। যখন একটা ভালো অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি, তখন একটা সমস্যা দেখা দেয়। এর আগেতো কিছুই ছিলো না। এক সময় বিমানে সিট খালি যেতো, তবু বলা হতো টিকিট নেই। সেটা দূর করেছি। যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিলো তারা ষড়যন্ত্র করতে পারে। আমাকে বলা হয়, বিমানে যাওয়া যাবে না। আমি বলেছি বিমানেই যাবো, মরলে নিজের বিমানেই মরবো।’

বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে কিছু মানুষ আছে, অপরাধীদের জন্য দরদ উতলে ওঠে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, মানিলন্ডারিং, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান, এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের জন্য মায়াকান্না হলে অপরাধীর বিচার হবে কী করে? ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি, তারা এতো টাকা বানিয়েছে, একটা না একটা সমস্যা তৈরি করে। তবে আজ হোক কাল হোক শাস্তি পেতেই হবে।’

যা চান তা লিখতে পারেন না বলে সম্প্রতি একজন সম্পাদকের অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি যেটা বলেছেন সেটা যদি সত্যি হতো তাহলে কি তিনি এই কথা বলতে পারতেন? আসলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকলে তার ভালো লাগে না। তিনি তো একবার বলেছিলেন ডিজিএফআই যে তথ্য দিয়েছিলো তিনি সেটা লিখেছিলেন। এখন ডিজিএফআই তথ্য দিচ্ছে না, তাই হয় তো তিনি লিখতে পারছেন না। আমরা তো ডিজিএফআইকে দিয়ে তথ্য দেওয়াই না। তিনি যদি মনে করেন ডিজিএফআই এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে সরকারপ্রধান জানান, আগামী জুলাই মাসে তিনি চীন সফরে যাবেন। চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং তাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে সামার সার্মিটে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র – বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Facebook Comments