সুমাইয়া আত্মহত্যা: ডাক্তারি পরীক্ষায় মিলল ধর্ষণের আলামত

রাজশাহীর মোহনপুরে চাঞ্চল্যকর সুমাইয়া আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশের আদালতে জমা দেয়া ডাক্তারি প্রতিবেদনে মিলেছে ধর্ষণের আলামত। শুরু থেকে পরিবার ধর্ষণের দাবি করে আসলেও পুলিশ নিয়েছিল অপহরণের মামলা। মামলার অন্যতম আসামি দেলোয়ার পলাতক থাকায় ক্ষোভের পাশাপাশি শঙ্কিত স্বজনরা।

পুলিশ বলছে, আসামি গ্রেফতার ও সুষ্ঠু তদন্তে অব্যাহত রয়েছে কার্যক্রম। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, ধর্ষণের আলামত উদ্ধারে সচেষ্ট হতে হবে পুলিশকে।

প্রায় দুমাস আগে রাজশাহীর মোহনপুরে অপহৃত কিশোরী সুমাইয়া চিরকুটে লিখে যান, অপমান সইতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। তার বাবা শুরু থেকে ধর্ষণের দাবি করে আসলেও নানা গড়িমসির পর অপহরণ মামলা নেয় পুলিশ। সম্প্রতি আদালতে জমা দেয়া ডাক্তারি প্রতিবেদনে ধর্ষণের বিষয়টি প্রমাণিত হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

অভিযোগ করা হয়েছে, এ মামলায় জামিনে থাকা আসামিরা এখনো কটূক্তি, উত্যক্ত, বিরক্ত করছে সুমাইয়ার পরিবারকে। তার প্রমাণও ধরা পড়ে সময় সংবাদের ক্যামেরায়। নিত্য এ ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে কন্যা হারানো পরিবারটির।

পুলিশ বলছে, সুষ্ঠু তদন্ত ও ডাক্তারি প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পাওয়ায় এ মামলার পলাতক আসামি দেলোয়ারকে আটকে তৎপর তারা।

জেলা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা মো: খালিদ বলেন, আমরা এটি ধর্ষণ মামলা হিসেবে উল্লেখ করে চার্জশিট দাখিল করবো।

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, আমরা নজরদারি বৃদ্ধি করেছি।

আইনজীবীরা বলছেন, ন্যায় বিচারের স্বার্থে আলামত উদ্ধারে সচেষ্ট হতে হবে পুলিশকে।

রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর ইসমত আরা বলেন, যে আলামতগুলো গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো পুলিশ যেন খুব দ্রুত উদ্ধার করে।

গত ২৩ এপ্রিল প্রাইভেট পড়তে গিয়ে অপহরণ হয় সুমাইয়া। এর চারদিন পর মোহনপুর থানায় করা হয় অপহরণ মামলা। এরপর কটূক্তি আর অপমানে ১৭মে আত্মহত্যা করলে দায়ের করা হয় আরো একটি মামলা। বর্তমানে দুটি মামলাই তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

Facebook Comments