১১ পারার হাফেজ ছোট্ট আব্দুল্লাহ বাঁচতে চায়

ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার ১০ বছরের ছোট্ট শিশু হাসান মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ। মুক্তাগাছা থানার জামিয়া আরাবিয়া মিফতাহুল উলুম (কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্তান মাদরাসা) এর হিফজ বিভাগের ছাত্র। ১১ পারা হেফজ করেছে আব্দুল্লাহ। কিন্তু বিধি বাম।

বাসার ছাদের উপরে ১১ হাজার ভোল্টের কারেন্টের তারে তার হাত লেগে যায়। সর্ট খেয়ে পড়ে যায় নীচে। তারপর সেখান থেকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।

ডাক্তাররা জানান, তার শরীরের ২৪ শতাংশ পুড়ে গেছে। এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে প্রভূর নামে জিকির করছে সে।

জানা গেছে, রাজধানীর ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিউটের এইচজিইউ এর ১ নম্বর বেডে দগ্ধাবস্থায় কাতরাচ্ছে হাসান।

প্রতিদিন ওর পেছনে প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বার্ন ইউনিটে থাকা অন্যান্য রোগীদের মাঝে হাসানের অবস্থা সবচেয়ে বেশি আশঙ্কজনক।

তার বাবার নাম মুস্তাফিজুর রহমান। জামিয়া আরাবিয়া মিফতাহুল উলুম মাদরাসার শিক্ষাসচিব। শিশু হাফেজ আব্দুল্লাহ বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। বর্তমান অবস্থা থেকে পূর্ণাঙ্গ সুস্থ হতে হাসানের আরো পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগবে।

হাসানের বাবা মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের লোক। কিছুদিন আগে পবিত্র উমরাহ পালন করে এসেছেন।

উমরা থেকে দেশে আসার পর তার আপন বড় ভাই অসুস্থ হলে তার পেছনেও প্রায় সোয়ালক্ষ টাকা খরচ করেন তিনি। এরপরও বাঁচাতে পারেননি বড় ভাইকে। বড় ভাইর শোক কেটে উঠতে না উঠতেই কলিজার টুকরা সন্তানের ঘটে গেলো এ করুণ দূর্ঘটনা।

ওর পেছনে এরইমধ্যে অনেক টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। এসবের পুরোটাই ঋণ করে চালাচ্ছেন তিনি। পূর্ণ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরো অনেক টাকার দরকার। এসব টাকার ব্যবস্থা কোত্থেকে হবে এর কিছুই বলতে পারছেন না মধ্যম আয়ের কওমি মাদরাসার এ শিক্ষক।

তিনি জানান, হাসানের দূর্ঘটনার সময় শাশুড়ি (হাসানের নানি) থেকে দু’বারে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। সেসব খরচ হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই। এরপরেও অনেক টাকা ঋণ করেছেন তিনি। তাই তিনি সকলের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করেছেন।

যোগাযোগ করতে- হাফেজ মাওলানা আশরাফ বিন মুখতার, হাসান মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর মামা।
বিকাশ (পার্সোনাল) ০১৭১৯৯৪৯৮৭৭।

Facebook Comments